
মহীরুহ নগরী
লেখক: সঞ্জয় বিশ্বাস
ভোর ৬:৪২
ক্রিং ক্রিং
অ্যালার্ম বেজে চলেছে
গরম কম্বলের দোহাই দিয়ে
আরেকটু কিছুক্ষন থেকে গেলাম ।
নিদ্রাচ্ছন যতক্ষণে হলো, ততক্ষনে ৮ টা বেজে ৩৪
ঝাপটে বিছানা টপকে
লিকুইড পেট্রোলিয়াম দহনে , গরম জলে তড়িঘড়ি করে
চান টা করে নিয়েছি।
মাথায় কন্ডিশনার , বউয়ের পরামর্শে সানস্ক্রিন
মেখে খেতে যাব, গিয়ে দেখি অগ্নিদর্ভ খাবার ।
মুখে দিতেই জিহ্বা গেল, আরকি
মোবাইলের স্ক্রিন দেখালো
আর ১১ মিনিটে ট্রেন! দেরি হলে লেট ফাইন
আরও কত কি তালবাহনা , ভাবনার উপক্রম তা।
পায়ের কাছে রত্না(আমার বিড়াল) ম্যাও ম্যাও করছে,
মাসলিয়া কা গন্ধ জো নিকালচুকি/চুকা হে তব তক।
এমত অবস্থাতে জলভর্তি পাত্র টা ও
কোথায় রেখেছি অনুসর্গ অনুপস্থিতি
দৌড় ঝাপ করে ট্রেনে তো উঠেই পড়লাম
শুরু হলো ন্যাশনাল ইন্টারন্যাশানাল ডিবেট
পুতিনের ছেলে নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যাকে
ফেসবুকে পোক করেছে
কিংবা “রাজ্যকে খেয়ে নিলো” “এনআরসি করে তাড়াবে”
কত পেগ মেরেছে কাল বন্ধুর বিবাহবাসনে
আর গ্লাস ভর্তি চা ও টাকা কালেকশন ।
ট্রেন ছেড়ে বাস ও অফিস যখন পৌঁছেছি
শার্প টাইমের কেবল মিনিট খানেক বাকি
তার পর এই সেই তাই ওই কতো কিছু সামলে
মা, প্রেমিকা, ছাত্র এবং ছাত্রী রাজনীতি ও খাবার
সবখানেই যেন আমিই সেরার লড়াই
হারতে চায় না কেউ,
ক্ষমার মূল্য ও মূল্যহীন
যাকে বলে একটা ব্যবস্থাপনাহীন ব্যবস্থাপনা ।
সমগ্র দিনের যান্ত্রিকতায়,
ঘোর অন্ধকার , মাকামে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা
যত গ্লানি মুছে যায় , অবশেষে ঘরে ফের
নিজের উৎকর্ষতা সমৃদ্ধি সব ধুলোয় মেশা ঐক্যতান।
কেবল অন্যের জন্যই বাচা।
অবশেষে ক্লান্তির ঘুম!
ক্রিং ক্রিং
অ্যালার্ম বেজে চলেছে
আবার
ভোর ৬:৪২
মহীরুহ নগরী
লেখক: সঞ্জয় বিশ্বাস
তারিখ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫
আরো পড়ুন: